Posts

ইস্তফা ---- দ্বৈপায়ন দত্ত

  ।। ইস্তফা ।। ---- দ্বৈপায়ন দত্ত সবাই ভালো করেই জানে — ইস্তফা তো তোমার কথার কথা লাখ লাখ মিথ্যার এ আর একটা মিথ্যা ! এ শুধু তোমার শোনার আকুতি — না না , চাই চাই , তোমাকে চাই !   কিন্তু দেখো , সময়ের কী পরিহাস — তোমার সমস্ত কুকর্মের সঙ্গী গুটিকয়েক পারিষদ আর স্তাবক ছাড়া আজ আর তা বলার একজনও নেই । আর পুলিশ - প্রশাসন ?   কবে সে কার ? যে যখন ক্ষমতায় আসে সে তখন তার । শাসক পদত্যাগ চাইছে — মানে, ভয় পেয়েছে!      যারা ভয়ে কিংবা পেটের দায়ে রাজস্তুতিকার — তারা আজ তাই মুখ খুলছে , কবিতাও লিখছে ।   এই তো তাদের সময় কবিতা লেখার ।   আমিও লিখছি । প্রশ্নও করছি — শাসক তুমি আর কতকাল আর কত ভাবে মিথ্যার জাল বুনে যাবে ? কথায় কথায় পদত্যাগের মিথ্যা ধমক দেবে ? তুমি তো ভালো করেই জানো —   যাদের কাছে তুমি পদত্যাগের ধমক দিচ্ছ তারা তো কবেই তোমাকে ত্যাগ করেছে ।   সরকারি নানা জনমোহিনী প্রকল্পের ছুতোয়   প্রকা...

তোরা উৎসবে ফিরে আয় ---- দ্বৈপায়ন দত্ত

  ।।তোরা উৎসবে ফিরে আয়।। ---- দ্বৈপায়ন দত্ত তোরা উৎসবে ফিরে আয়!       একজন শাসকের পক্ষে হাত নেড়ে       কত সহজেই না কথাটা বলে দেওয়া যায়। শাসকের এ চরিত্রটা চিরন্তন।     কিন্তু নির্মম হত্যাকে ভুলে রাস্তার প্রতিবাদ ফেলে পূজোতে কি ফিরে আসা যায়?   রাখা যায় কি শাসকের আহ্বান? কালের নিয়মে শাসক আসে শাসক যায় কিন্তু প্রজাদের উপর অত্যাচার শোষণ —   সেসব থামে কৈ? না, থামে না, তা থামারও নয়।     কেনোনা, শাসক তো শাসকই তার চরিত্রের বদল যে কোনোদিনও হওয়ার নয়।   কেবল অত্যাচারের রকমটা বদলায়। শাসকের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত হয় ক্ষোভ। কখনো কখনো খুলে যায় তার জ্বালামুখ      আর সেই পুঞ্জিভূত রোষের আগুনে রাজপুরোহিতেরা ভগবানকে টেনে এনে শান্তির জল ছিটায় —   রাজা ভগবান!         রাজপুরোহিতদের অমোঘ নিদান — রাজার শোষণ অত্যাচার? অপপ্রচার! রাজার বিরুদ্ধে অপপ্রচার! আর রাজার অত্যাচারে প্রজার দুর্দশা? কুৎসা! রাজার বিরুদ্ধে কুৎসা!   শোষণ অত্যাচার দুর্দশা সবই প্র...

আজ আমি শুধু তোমাদের মেয়ে ---- দ্বৈপায়ন দত্ত

  ।। আজ আমি শুধু তোমাদের মেয়ে ।।     ---- দ্বৈপায়ন দত্ত আমাকে যতবার ওরা ছিন্ন করেছে তার চেয়েও অনেক বেশি বার আমি চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ কি শুনেছে সে চিৎকার? শোনেনি।   কেনোনা, তার জন্য যে ছিদ্রটুকুর দরকার ছিল সেটুকুও যে ওরা রাখেনি। তবুও আমার যখন দম আটকে আসছিল আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি বলতে — তোমরা ওদের চিনে নিও ওরা আমাকে পুড়িয়েছে সেই নগর শ্রীলঙ্কায়   জীবন্ত কবর দিয়েছে নগর অযোধ্যায়   বিবস্ত্র.করেছে আমায় নগর হস্তিনায়। সেই ট্র্যাডিশন আজও সমানে চলছে   শাসক সেদিনও চুপ ছিল — আজও বিন্দাস! গোপনে সুচারুভাবে পোড়ানর চিহ্ন মোছে। কালান্তরে বদলেছে শুধু পোড়ানর কৌশলটা ঠিক শেষ পর্যন্ত যতটা জঘন্য হওয়া যায় ঠিক ততটা।               আর তাতেই আমি নিদারুণভাবে পুড়ে    তোমাদের হৃদয়কে পুড়িয়ে গেলাম। তোমরাও নিজেদের পুড়িও যাতে আমার মতো আর কাউকে পুড়তে না হয় কখনো।     যে সীমাহীন যন্ত্রণা আমি পেয়েছি তা আজ তুচ্ছ মনে হয় যখন দেখি —     কোটি কোটি বন্ধু বাবা মা বোন ভা...

আমার দেখা রাজকন্যা --- দ্বৈপায়ন দত্ত ১৫-১১-২০২৩

    ।।আমার দেখা রাজকন্যা।। --- দ্বৈপায়ন দত্ত ১৫-১১-২০২৩ আচ্ছা, তুমি কখনো রাজকন্যা দেখেছো? আমি দেখেছি।   তবে, সে-অর্থে সে রাজকন্যা নয় — সব পিতার কাছে তার কন্যা যেমন রাজকন্যা — সে তেমনই এক রাজকন্যা।     আমি সেই রাজকন্যাকেই দেখেছি। তুমি হয়তো ভাবছ — দেখেছিলেম তারে সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পারে। না না — আমি দেখেছিলেম তারে — শরতের কোনো এক বিকেলের পড়ন্ত বেলায়     কলকল রবে বয়ে চলা জাহ্নবীর তীরে। বাঁশের বেঞ্চিতে বসে পা দুলিয়ে দুলিয়ে অদূরে গঙ্গার বুকে জেগে ওঠা চরের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে সে বলেছিল — ঐ চরটা আগে ছিল না। ওই কাশ আর হোগলার খেত — ছিল না ওর বুকে।   ওরাও বড় হয়েছে একটু একটু করে আমিও বড় হয়েছি ওদের দেখে দেখে। তারপর একটু থেমে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলেছিল —   আমি ওদের কাছে কখনো যাইনি!   বাবার প্রাণের রাজকন্যে যে — যেতেই দেয়নি!     শুধু বিকেল বেলায় যখন খেলতে আসি এই বেঞ্চিতে বসেই দূর থেকে ওদের দেখি। কেনো জানো? ওদের আমি ভীষণ ভালোবাসি। শুনে, একটু হিংসে হয়েছিল আমার — আহা, যদি কাশ...